Saturday, March 14, 2026

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশু সহ ৯ নিহত


ছবিঃ ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে লেবাননের Beirut শহরের কেন্দ্রস্থলে Israel-এর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছেন এক নারী। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । Hussein Malla / Associated Press)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের নতুন ধাপে দক্ষিণাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে Israel। একই সঙ্গে রাজধানী Beirut-এর আকাশে লিফলেট ছড়িয়ে দেশটিকে সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে গাজার মতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে পারে লেবানন।

শুক্রবার ভোরে লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত জারারিয়েহ সেতুতে হামলা চালানো হয়। সেতুটি দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সেতুটি ব্যবহার করে যোদ্ধারা উত্তর ও দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে যাতায়াত করছিল। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz সতর্ক করে বলেন, সশস্ত্র সংগঠন Hezbollah অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত লেবাননের অবকাঠামোর ওপর আরও হামলা চালানো হতে পারে। তিনি জানান, এর ফলে দেশটির অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং ভূখণ্ডগত চাপ আরও বাড়বে।

একই দিনে বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। শহরের উত্তর-পূর্ব উপশহর বুর্জ হাম্মুদ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এছাড়া জ্নাহ ও নাবা এলাকাতেও পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ লেবাননের সিডনের কাছে আরকি এলাকায় হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ফাওয়ার এলাকায় আরও আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গত ২ মার্চ উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে, যখন ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার জেরে লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই দুই পক্ষের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৭৩ জন নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় আট লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

শুক্রবার বৈরুতের আকাশে ফেলা লিফলেটগুলোতে গাজার উদাহরণ তুলে ধরে লেবাননকে সতর্ক করা হয়। সেখানে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলাফলই লেবাননের জন্য সম্ভাব্য ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

অন্য একটি লিফলেটে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানানো হয় এবং এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য কিউআর কোডও দেওয়া হয়। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী জনগণকে এসব কিউআর কোড স্ক্যান না করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Antonio Guterres। শুক্রবার বৈরুত সফরে গিয়ে তিনি বলেন, লেবানন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটির নিজের পছন্দের ছিল না। জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য তিনি ৩০৮ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাতের কারণে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ গর্ভবতী নারী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের প্রায় চার হাজারের সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে হামলার কারণে অন্তত ৫৫টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে।

একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞও দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের কিছু এলাকায় জারি করা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন