- ১৪ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট Sebastian Enrique Marset Cabrera-কে গ্রেপ্তার করেছে বলিভিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকালে শতাধিক পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দেশটির Santa Cruz de la Sierra শহর থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট Rodrigo Paz এই ঘটনাকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজধানী La Paz-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মারসেট দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় চার মাদক চক্রের নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে বড় অগ্রগতি।”
অভিযানের পর মারসেটকে মার্কিন হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে তাকে একটি যুক্তরাষ্ট্র-চিহ্নিত বিমানে উঠতে দেখা যায়। যদিও গ্রেপ্তার অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়নি Drug Enforcement Administration (ডিইএ), তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
৩৪ বছর বয়সী উরুগুয়ের নাগরিক মারসেটকে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত মাদক পাচারকারীদের একজন বলে মনে করা হয়। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোকেন পাচার, অর্থপাচার এবং একটি আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মারসেটের নেতৃত্বে পরিচালিত “ফার্স্ট উরুগুয়ান কার্টেল” নামে একটি চক্র ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোকেন পাচার করত। বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প বন্দরে প্রায় ১৬ টন কোকেন জব্দের ঘটনাও তার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মারসেটকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল একাধিক দেশ। তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ২০২৩ সালে Bolivia সরকার এক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও তার গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে পলাতক ছিলেন মারসেট। এর আগে ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai শহরে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগে তাকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
মারসেট ফুটবলের বড় ভক্ত হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি ছোট ফুটবল ক্লাবে বিনিয়োগও করেছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর এখন তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে Paraguay সরকার জানিয়েছে, তারা মারসেটকে নিজেদের দেশে প্রত্যর্পণের আবেদন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মারসেটের গ্রেপ্তার দক্ষিণ আমেরিকায় মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে বড় সাফল্য হলেও এই অঞ্চলে মাদক পাচার চক্র পুরোপুরি দমন করতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।