Saturday, March 14, 2026

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


ছবিঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের Kharg Island-এর একটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল দেখা যাচ্ছে। ছবিটি মহাকাশ থেকে ধারণ করেছে Planet Labs এবং এটি প্রকাশ করেছে Reuters। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প । তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ওই দ্বীপের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সেগুলো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করেছে। তবে তিনি জানান, হামলায় তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

Kharg Island ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এদিকে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর তেল কোম্পানির অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খার্গ দ্বীপে হামলার সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সেখানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌঘাঁটি ও বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়কাল ও তীব্রতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন মন্তব্যে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ওঠানামা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।

Strait of Hormuz বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বে ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি লেবাননেও উত্তেজনা বাড়ছে। Hezbollah-এর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক হলেও লেবানন ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষ ইতোমধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন