- ১৭ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উদীয়মান প্রতিষ্ঠান ডিপসিক (DeepSeek), স্মৃতি চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি (CXMT) এবং আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে আপাতত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত না করতেই এই অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মার্কিন আন্তঃসংস্থাগত পর্যালোচনা কমিটি গত বছরই এসব প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য বিভাগের ‘এনটিটি লিস্ট’ বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরও তালিকাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ডিপসিকের কিছু কার্যক্রম চীনের সামরিক ও গোয়েন্দা খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির মার্কিন চিপ সংগ্রহে পরোক্ষ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিপসিকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সিএক্সএমটি চীনের অন্যতম বৃহৎ মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ কোম্পানিটিকে চীনা সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনটিটি লিস্ট’-এ কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে তাদের কাছে মার্কিন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার বা যন্ত্রপাতি রপ্তানি করতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত পাওয়া কঠিন। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় যুক্ত না করায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এত দীর্ঘ সময় ধরে তালিকায় নতুন সংযোজন না হওয়া বিরল ঘটনা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই বিলম্বের কারণে কিছু সংবেদনশীল প্রযুক্তি এখনো চীনা প্রতিষ্ঠানের নাগালে পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষ করে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তি খাতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞামূলক নীতির সমালোচনা করে বলেছে, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বেইজিংয়ের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে রয়েছে ওয়াশিংটন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং দুই দেশের প্রযুক্তি-প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপ।