- ১৭ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতির খবর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৮ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এর আগে টানা দুই কার্যদিবসে প্রায় ৫ শতাংশ করে মূল্যহ্রাস হয়েছিল। ফলে যুদ্ধকালীন উচ্চতা থেকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে এসেছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের সময় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলেও এখন সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বাজার বর্তমানে সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতি ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে। তবে সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত কঠোর সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি পুরোপুরি সচল হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আস্থা ফিরতে শুরু করবে। তবে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত কাটবে না। শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং নৌপথকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করতেও সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর সূচনা হতে পারে, তবে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতা কার্যকর হলে শুধু তেলের দামই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই আশাবাদের স্থায়িত্ব।