- ১৭ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির সিনেট মনোনয়ন দৌড়ে বিজয়ী হয়েছেন কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্স। দলীয় রানঅফ নির্বাচনে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরের প্রার্থী ডেরেক ডুলিকে পরাজিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকানদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।
মাইক কলিন্সের বিজয়ের পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভোটের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কলিন্সকে সমর্থন দিয়ে তাকে একজন ‘যোদ্ধা’ ও ‘বিজয়ী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে ডুলির পক্ষে ছিলেন জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প।
আগামী সিনেট নির্বাচনে কলিন্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। রাজনৈতিক মহলে ওসফকে ভবিষ্যৎ ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দলটি আরও আসন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যেই জর্জিয়াকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ওসফকে পরাজিত করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জন ওসফের অন্যতম শক্তি হলো ভোটারদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ এবং রাজ্যজুড়ে সক্রিয় উপস্থিতি। ফলে রিপাবলিকানদের জন্য এই আসন দখল করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ওসফ অনেক এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনী তহবিলে তিনি কয়েক কোটি ডলার সংগ্রহ করেছেন, যা তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিপরীতে কলিন্সের তহবিল তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও রিপাবলিকান নেতৃত্ব ইতোমধ্যে জর্জিয়ার আসনটি নিজেদের দখলে নিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত কয়েকটি আসনে জয় প্রয়োজন হবে। ফলে জর্জিয়ার নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া কলিন্স এবং অভিজ্ঞ সিনেটর ওসফের মধ্যকার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।