Friday, August 7, 2026

৩০ হাজার ডলারের বৈদ্যুতিক পিকআপে নতুন বাজি ফোর্ডের, ‘ফ্যাথম’ কি বদলে দেবে কোম্পানির ভাগ্য


ছবিঃ গাড়ি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

এক সময় অটোমোবাইল শিল্পে ধারাবাহিকভাবে নতুন ইতিহাস গড়েছিল ফোর্ড। মডেল টি থেকে শুরু করে টরাস, এফ-১৫০ কিংবা এক্সপ্লোরারের মতো জনপ্রিয় মডেল কোম্পানিটিকে এনে দিয়েছিল বিশ্বজুড়ে সাফল্য। তবে গত কয়েক বছরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি মার্কিন এই নির্মাতা। নতুন মডেল বাজারে এলেও কোনোটিই প্রত্যাশিত আলোড়ন তুলতে পারেনি।

এমন বাস্তবতায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজারে নতুন আশা হয়ে সামনে এসেছে ‘ফ্যাথম’ নামের একটি কমপ্যাক্ট ইলেকট্রিক পিকআপ। ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম ফার্লে এই মডেলকে কোম্পানির জন্য একটি ‘মডেল টি মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার বিশ্বাস, নতুন ইউনিভার্সাল ইভি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত এই গাড়ি ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় ফোর্ডকে নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

ফোর্ড জানিয়েছে, ফ্যাথমের প্রাথমিক সংস্করণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৯৪৫ মার্কিন ডলার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন গাড়ির গড় মূল্য এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির গড় দামের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে মূল্য বিবেচনায় ফ্যাথম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কম দাম কোনো গাড়ির সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। ক্রেতাদের পছন্দ, ব্যবহারিক সুবিধা, নকশা এবং বাজারের প্রবণতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাথমকে কমপ্যাক্ট পিকআপ হিসেবে বাজারে আনছে ফোর্ড। এই শ্রেণির গাড়ির জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে কোম্পানির ম্যাভেরিক মডেলের সাফল্যের পর। তবে এই বাজার এখনো পূর্ণাঙ্গ মূলধারার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাথম ম্যাভেরিকের তুলনায় কিছু অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এর কেবিনে যাত্রীদের জন্য বেশি জায়গা রাখা হয়েছে এবং সামনের অংশে অতিরিক্ত স্টোরেজ বা ‘ফ্রাঙ্ক’ যুক্ত করা হয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দেবে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা এসইউভি শ্রেণির গাড়ির। ফলে কমপ্যাক্ট পিকআপের বাজার বাড়লেও তা এখনো তুলনামূলক সীমিত।

এ ছাড়া অনেক ক্রেতার কাছে পিকআপ ট্রাক শুধু পরিবহন নয়, বরং একটি বিশেষ জীবনধারার প্রতীক। বড় আকৃতি, শক্তিশালী নকশা এবং অফ-রোড সক্ষমতা অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্যাথমের তুলনামূলক সরল নকশা সেই ক্রেতাদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়লেও এখনো অনেক ক্রেতা প্রচলিত পেট্রোলচালিত গাড়ির প্রতি আস্থাশীল। চার্জিং অবকাঠামো, অভ্যাস এবং ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় অনেকে এখনো ইভিতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।

তবে ফোর্ড মনে করছে, কার্যকর বিপণন, ডিলারদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রযুক্তির সুবিধা তুলে ধরতে পারলে এই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে ফ্যাথমের আরও শক্তিশালী ও অফ-রোড উপযোগী সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাথম হয়তো ফোর্ডের পরবর্তী ‘সুপারহিট’ মডেল হয়ে উঠবে না। তবে এটি কোম্পানির নতুন উৎপাদন পদ্ধতি এবং ইউনিভার্সাল ইভি প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তাহলে একই প্রযুক্তির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এসইউভিসহ আরও জনপ্রিয় সেগমেন্টে নতুন বৈদ্যুতিক মডেল আনার পথ সুগম হবে।

ফোর্ডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ফ্যাথম কি একাই কোম্পানির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি এটি ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করবে? এর উত্তর মিলবে বাজারে গাড়িটি আসার পরই।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন