- ১২ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের সাম্প্রতিক সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পাঁচটি পর্ব মিলিয়ে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ১ শতাংশ। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় ফলাফলকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মোট ২ লাখ ১৮ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছেন ৮৭ হাজার ৬৪৩ জন এবং ফেল করেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৩০ জন।
পর্বভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার দেখা গেছে প্রথম সেমিস্টারে। এ পর্বে পাসের হার মাত্র ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ, চতুর্থ সেমিস্টারে ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ষষ্ঠ সেমিস্টারে ৪২ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে অষ্টম সেমিস্টারে প্রায় শতভাগ সাফল্য এসেছে, যেখানে পাসের হার ৯৯ শতাংশেরও বেশি।
ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকের অভিযোগ, প্রত্যাশার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে। একই বিষয়ে একই ব্যাচের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করাকে তারা “গণরেফার্ড” হিসেবে উল্লেখ করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, যেসব পরীক্ষা আন্দোলন ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে বিলম্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেসব বিষয়েই ফেল বেশি এসেছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ফলাফল চ্যালেঞ্জের আবেদনও বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অতীতে পুনঃনিরীক্ষণের পরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ফলাফলেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১১ হাজার ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪ হাজার ৭৫২ জন। ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফলাফলের বিষয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় এবার মূল্যায়নে মানবিক নম্বর বা অতিরিক্ত ছাড় কম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছেন, আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলায় প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ল্যাব ও ব্যবহারিক ক্লাসের ঘাটতিও ফল খারাপ হওয়ার একটি বড় কারণ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবুল কালাম আজাদ “গণরেফার্ড” অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়মিত ছিল, তাদের পাসের হার তুলনামূলকভাবে ভালো।
তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, শুধু ক্লাসে অনুপস্থিতিকে দায়ী করে ফল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া যথেষ্ট নয়। তারা মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।