Wednesday, June 17, 2026

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন


ছবিঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, কমিটির অনুমোদন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক কোম্পানি (এসপিসি) ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে উন্নয়ন ও ভূমি ইজারা সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার ও চীনের যৌথ উদ্যোগে আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর একটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মালিকানা কাঠামো অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে এবং বাকি ৭০ শতাংশ থাকবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মালিকানায়।

প্রকল্পে বেজার অংশীদারিত্ব হিসেবে অধিগ্রহণ করা জমির দীর্ঘমেয়াদি লিজমূল্যকে মূলধন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে চীনা অংশীদার নগদ অর্থ বিনিয়োগ করবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তিগুলো সম্পাদনের ক্ষেত্রে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পের ধরন, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর মতো বিষয়গুলো পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, একই দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে ব্যবসা পরিচালনা, যোগাযোগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এবং বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন