- ১৮ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম মো. জায়ান (৫)। সে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দরখীল এলাকার গ্যারেজ মালিক শাহজাহানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়ান। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, সে হয়তো পাশের কোনো জলাশয়ে পড়ে গেছে। এ কারণে আশপাশের পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। পরে কোনো খোঁজ না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বজনরা।
ঘটনার কিছু সময় পর শিশুটির বাবার ঘরের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং পরিবারের একজনের মোবাইল ফোন আনলক করে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়। একইসঙ্গে পুলিশকে জানালে শিশুটির ক্ষতি হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
চিঠি উদ্ধারের পর পুলিশ সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পেছনের ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
অবশেষে বুধবার রাতে শিশুটির বাড়ির কাছেই একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা বস্তার ভেতর থেকে জায়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।