- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভারতের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো দেশটির মাটিতে খেলতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল আলোচিত এই প্রীতি ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ম্যাচটি আয়োজনের আনন্দের পাশাপাশি সূচি–সংক্রান্ত একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।
সমস্যার মূল কারণ, একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আশিয়ান কাপ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। আর ঠিক সেই সময়সূচির মধ্যেই ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত।
এ পরিস্থিতিতে ভারত যদি আশিয়ান কাপে শেষ চার কিংবা ফাইনালে জায়গা করে নেয়, তাহলে একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পূর্ণশক্তির দল নামানো সম্ভব হবে না। ফলে দুটি ভিন্ন স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের বিপক্ষে দেশের মূল জাতীয় দলকে খেলানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে এআইএফএফ। অন্যদিকে আশিয়ান কাপে অংশ নেবে দ্বিতীয় সারির ফুটবলারদের নিয়ে গড়া একটি দল।
আসন্ন আশিয়ান কাপে ভারতের গ্রুপে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপসেরা দলই কেবল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে এ পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া। তার মতে, একটি প্রদর্শনী ম্যাচের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অনেক বেশি কার্যকর।
এক সাক্ষাৎকারে ভুটিয়া বলেন, ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা অবশ্যই বিশেষ অভিজ্ঞতা। কিন্তু একটি প্রীতি ম্যাচের চেয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেললে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও দলীয় উন্নয়ন আরও বেশি হবে।
তবুও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা আশিয়ান কাপ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছে না, আবার ব্রাজিলের বিপক্ষেও পূর্ণশক্তির দল নামানোর পরিকল্পনা বজায় রেখেছে। ফলে দুটি ভিন্ন দল ব্যবহার করেই একই সময়ে দুটি আন্তর্জাতিক সূচি সামাল দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ারও বড় সুযোগ। একই সঙ্গে আশিয়ান কাপেও ভালো ফলের লক্ষ্য থাকায় দল নির্বাচনের এই কৌশল কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।