- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভোজিনহা নামটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে নিয়ে আলোচনাও ছিল সীমিত। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। এখন তিনি শুধু কেপ ভার্দের নয়, বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত এক নাম।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে দলে ভিড়িয়েছে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলো। সান্তিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসে যে অভ্যর্থনা তিনি পেয়েছেন, তা বড় কোনো তারকার আগমনকেও মনে করিয়ে দেয়।
ভোজিনহার ফুটবলযাত্রা ছিল সংগ্রামে ভরা। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা এই গোলরক্ষক দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের তুলনামূলক কম আলোচিত লিগে। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই তিনি থেকেছেন আলোচনার বাইরে।
বিশ্বকাপের আগে কেপ ভার্দেকেও বড় কোনো প্রতিযোগী হিসেবে দেখেননি অধিকাংশ বিশ্লেষক। ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির সম্ভাবনা নিয়ে খুব কম মানুষই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সব হিসাব বদলে দেয় দলটি। আর সেই সাফল্যের অন্যতম স্থপতি ছিলেন পোস্টের নিচে অটল থাকা ভোজিনহা।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একের পর এক সেভ, আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্ব এবং চাপের মধ্যে অসাধারণ স্থিরতা কেপ ভার্দেকে এনে দেয় বিশ্ব ফুটবলে নতুন পরিচিতি। টুর্নামেন্ট শেষে যেসব বিশ্লেষক তাকে আগে গুরুত্ব দেননি, তারাই এখন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষককে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আবিষ্কার হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
বিশ্বকাপের পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহের খবরও সামনে আসে। তবে বড় অঙ্কের প্রস্তাবের পরিবর্তে ভোজিনহা বেছে নিয়েছেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর জার্সি।
ক্লাবটির আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠানও ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে কোলো কোলোর অর্জিত সব শিরোপা মাঠে সাজিয়ে নতুন গোলরক্ষককে স্বাগত জানানো হয়। সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভোজিনহা নিজেও।
শুধু তাই নয়, ক্লাবে তার জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে জার্সিতেও। বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে তার জার্সিতে ব্যক্তিগত ডাকনাম ‘ভোজিনহা’ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমর্থকেরা পরিচিত নামেই তাকে গ্যালারি থেকে উৎসাহ জানাতে পারেন।
ফুটবলের রূপকথার গল্পগুলো আজও যে শেষ হয়ে যায়নি, ভোজিনহার যাত্রা যেন তারই আরেকটি প্রমাণ। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্বকাপের নায়ক থেকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নতুন মুখ—এই পথচলা শুধু একজন ফুটবলারের নয়, অধ্যবসায় আর স্বপ্নে বিশ্বাস রাখারও অনন্য এক উদাহরণ।