- ০২ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন চিকিৎসক কে এম আবদুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা। তারা একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের ওই শিশুটিকে প্রায় নয় মাস আগে তার নানা চিকিৎসক দম্পতির বাসায় রেখে যান। পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে জানানো হয়, শিশুটি নাকি চুরি করে পালিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় সন্দেহ দেখা দিলে শিশুটির পরিবার ২৬ এপ্রিল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চিকিৎসক দম্পতির বাসার পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
বর্তমানে শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং পরে তাকে চুরির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক কে এম আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিশুটি গৃহকর্মী নয়, বরং তাদের সন্তানদের সঙ্গী হিসেবে বাসায় ছিল। তিনি আরও বলেন, শিশুটি তাদের বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, শিশুটির বিরুদ্ধে থানায় কোনো চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে আদালতের পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।