Thursday, May 21, 2026

বলিউডে ব্যর্থতা, দক্ষিণে তারকাখ্যাতি: জ্যোতিকার দুই দশকের অনন্য যাত্রা


ছবিঃ জ্যোতিকা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

প্রথম সিনেমা মুক্তির পর বলিউডে খুব বেশি সুযোগ পাননি। অথচ দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্প তাঁকে শুধু গ্রহণই করেনি, বরং সময়ের সঙ্গে বানিয়েছে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল সিনেমায় নিজের অভিনয় দক্ষতা ও বহুমাত্রিক চরিত্রের মাধ্যমে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, হিন্দি সিনেমায় থেকে গেলে হয়তো তাঁর ক্যারিয়ার এত দূর এগোত না। কারণ, প্রথম বলিউড ছবি ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁকে আর তেমনভাবে সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে দক্ষিণি সিনেমা তাঁর অভিনয়ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করেছিল।

১৯৯৮ সালে পরিচালক প্রিয়দর্শনের হিন্দি ছবি ‘ডোলি সাজা কে রাখনা’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় জ্যোতিকার। তবে ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়নি। সেই ব্যর্থতার পর বলিউডে তাঁর পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়ে।

একই সময়ে তাঁর প্রথম তামিল ছবিও ব্যবসায়িকভাবে খুব একটা সফল হয়নি। কিন্তু সেখানে নির্মাতারা ছবির ফল নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেন। এরপর দ্রুতই তামিল সিনেমায় একের পর এক ছবির প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।

মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া জ্যোতিকার পরিবার মূলত পাঞ্জাবি ও মহারাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বড় বোন নাগমা নব্বইয়ের দশকে বলিউড ও দক্ষিণি সিনেমার পরিচিত মুখ ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই বিনোদনজগতে প্রবেশ করেন জ্যোতিকা।

তামিল ভাষা না জানা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি। শুরুতে ডাবিং শিল্পীদের ওপর নির্ভর করলেও পরে নিজেই ভাষা রপ্ত করেন এবং স্থানীয় দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হন।

দুই হাজারের দশকে জ্যোতিকা তামিল সিনেমার অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। রোমান্টিক, পারিবারিক, কমেডি কিংবা মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র—সব ধরনের অভিনয়ে তিনি প্রশংসা কুড়ান।

বিশেষ করে ‘চন্দ্রমুখী’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের মুগ্ধ করে। মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত এক নারীর চরিত্রে তাঁর অভিব্যক্তি ও অভিনয় দক্ষতা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এছাড়া ‘মোঝি’ ছবিতে বাক্‌প্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি প্রশংসা পান।

ব্যক্তিজীবনেও জ্যোতিকা ছিলেন আলোচনায়। অভিনেতা সুরিয়ার সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০৬ সালে বিয়ের পর কিছু সময় অভিনয় থেকে দূরে সরে পরিবার ও সন্তানদের সময় দেন তিনি।

তবে বিরতির পর আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসেন এই অভিনেত্রী। ‘থার্টি সিক্স বয়সধিনিলে’, ‘রাটচাসি’ এবং ‘পোনমাগাল ভান্ধাল’–এর মতো ছবিতে মধ্যবয়সী নারীর সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও বাস্তব জীবনের গল্প তুলে ধরে নতুনভাবে দর্শকদের মন জয় করেন।

জ্যোতিকা মনে করেন, বর্তমানে বলিউডে চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের জন্য শক্তিশালী চরিত্র তৈরি হলেও দক্ষিণি সিনেমা তাঁকে যে সুযোগ দিয়েছে, তা তাঁর অভিনয়জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের নজর কাড়ছেন। নতুন প্রকল্প ‘সিস্টেম’–এ তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে সোনাক্ষী সিনহা ও আশুতোষ গোয়ারিকরকে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন