- ৩০ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি বছরের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে এবার ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর দলকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা শুরু করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দিয়ে নতুন প্রজন্মের ব্রাজিল গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, বিশ্বকাপের ফল অবশ্যই ব্রাজিলের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এই ব্যর্থতায় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থক সবাই হতাশ। তবে অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে দীর্ঘ সময় পড়ে না থেকে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
আনচেলত্তির বিশ্বাস, ব্রাজিলে প্রতিভাবান ফুটবলারের কোনো সংকট নেই। সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত সময় এবং যোগ্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে পারলে ভবিষ্যতে আবারও শক্তিশালী দল গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার রিও ডি জেনিরোতে ফেরেন ব্রাজিল কোচ। সেখানে পৌঁছেই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) জাতীয় দল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে আগামী কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক সূচি এবং দল পুনর্গঠনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রাজিলের সামনে এখন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এরপর ২০৩০ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব শুরু হবে। এর আগে ২০২৮ সালে কোপা আমেরিকাতেও অংশ নেবে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তাঁর বিদায়ের পর দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন প্রজন্মকে সামনে এনে ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরি করার সময় এখনই বলে মনে করছেন আনচেলত্তি।
দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটবলে একটি প্রজন্মের বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের আগমন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নতুন ফুটবলারদের শুধু আগের প্রজন্মের জায়গা পূরণ করলেই হবে না; তাদের আরও ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। ব্রাজিল এখন সেই নতুন চক্রের সূচনা করতে চায়।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ ও সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নতুন একটি সেলেসাও গড়ার কাজ শুরু করব। তবে এর অর্থ এই নয় যে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বাদ দেওয়া হবে। যাঁদের এখনো ব্রাজিলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে, জাতীয় দলের দরজা তাঁদের জন্য খোলা থাকবে।’
অর্থাৎ দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটলেও অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়েই ভবিষ্যতের ব্রাজিল গড়তে চান আনচেলত্তি। বিশ্বকাপে খেলা অনেক অভিজ্ঞ ফুটবলারও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় থাকবেন বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেছে সিবিএফ। ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন এই সফল কোচ।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রথম আন্তর্জাতিক সূচিতে আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিল ও ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ দুটি।
এ ছাড়া অক্টোবরের শুরুতে ভারতের কলকাতায় ব্রাজিলের আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চাওয়া ব্রাজিলের জন্য আগামী কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তরুণদের পরখ করার পাশাপাশি নতুন কৌশল ও সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন আনচেলত্তি। তাঁর পরিকল্পনা সফল হলে ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে নতুন রূপে দেখা যেতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।