- ২৯ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বড় মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাস্কার। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের তুলনামূলক বড় মাঠের কথা বিবেচনায় রেখে ভারতের মাঠগুলোতে বাউন্ডারির দূরত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে। সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর বেশির ভাগ মাঠের বাউন্ডারি ভারতের অনেক মাঠের তুলনায় বড় হওয়ায় ভারতীয় ব্যাটারদের আগেভাগেই ওই ধরনের কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক।
গাভাস্কার বলেন, ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজনের সময় মাঠের বাউন্ডারি কিছুটা বড় করা যেতে পারে। এতে বিশ্বকাপে বড় মাঠে খেলতে গিয়ে ব্যাটারদের হঠাৎ করে ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।
মাঠের কার্যকর আয়তন বাড়ানোর উপায় নিয়েও মত দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, অনেক স্টেডিয়ামে বাউন্ডারি লাইনের আশপাশে এলইডি বিজ্ঞাপন বোর্ড বসানোর জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখা হয়। এসব বোর্ডের পেছনে থাকা খালি অংশ কাজে লাগানো গেলে মাঠের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব।
শুধু মাঠের আকার নয়, বিশ্বকাপে ভারতীয় ব্যাটারদের কৌশলগত ব্যাটিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন গাভাস্কার। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের সব বোলারকে একইভাবে আক্রমণ না করে বোলারভেদে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দলের সব বোলারের মান ও সামর্থ্য এক রকম নয়। তাই কোন বোলারের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক হতে হবে এবং কাকে সময় নিয়ে খেলতে হবে, তা পরিস্থিতি বুঝে নির্ধারণ করা জরুরি।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের পার্থক্য তুলে ধরে গাভাস্কার বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে ইনিংস গড়ে তোলা এবং পরে আক্রমণ করার জন্য ব্যাটারদের হাতে বেশি সময় থাকে। টি-টোয়েন্টিতে যেখানে সীমিত কয়েক ওভারের মধ্যে দ্রুত রান তুলতে হয়, সেখানে ওয়ানডেতে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে ইনিংস সাজানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
তাঁর মতে, ইনিংসের নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে ব্যাটিং পরিকল্পনা করতে পারলে বড় রান তাড়াও সম্ভব। সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে ৩৮০ রানের লক্ষ্যও অর্জন করা অসম্ভব নয়।
শট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। তিনি মনে করেন, টি-টোয়েন্টির মতো ঝুঁকিপূর্ণ বা অপ্রচলিত শটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে ওয়ানডেতে পরিস্থিতি ও বলের গুণাগুণ বুঝে প্রচলিত ক্রিকেটীয় শট খেলাই বেশি কার্যকর।
গাভাস্কারের ভাষায়, ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় ইনিংস গড়তে সঠিক শট নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারলে প্রচলিত ক্রিকেটীয় শট খেলেই বড় স্কোর গড়া সম্ভব।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলকে ভিন্ন কন্ডিশন ও বড় মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এই কিংবদন্তি ব্যাটার।