- ০২ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দিনভর উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সোমবার রাতে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তার মধ্যেই এ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।
রাত ৯টার দিকে অনলাইনে শুরু হওয়া এ পর্ষদ সভা প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য অংশ নেন। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট এক স্বতন্ত্র পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত এজেন্ডা অনুযায়ী সভায় আলোচনা হয় এবং এমডির পদত্যাগ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
এর আগে একই দিনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে সশরীরে পর্ষদ সভা আয়োজনের কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সকাল থেকেই দিলকুশা এলাকায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে সভাটি ভার্চ্যুয়ালি আয়োজন করা হয়।
দিনভর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। আন্দোলনকারীরা ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংককে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করার দাবিও তোলা হয়। সংঘর্ষে বহু গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন এবং একাধিকবার সরতে বলা হলেও তারা তা মানেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আন্দোলনের চাপের ভিত্তিতে নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সিদ্ধান্ত হবে আইন ও বিধি অনুযায়ী এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আসে এবং একই দিনে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান মো. খুরশীদ আলম। এরপর থেকেই এ নিয়োগ ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল, যার ধারাবাহিকতায় সোমবারের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।