- ০২ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাংলাদেশে কাঁচা চামড়ার অন্যতম বড় উৎস থাকলেও এ খাত এখন গভীর সংকটে পড়েছে। ধারাবাহিকভাবে কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক মৌসুমে চামড়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দর ঘোষণা করলেও বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি, বরং অনেক জায়গায় চামড়া কম দামে বিক্রি কিংবা অবিক্রীত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
চলতি মৌসুমেও একই চিত্র দেখা গেছে। নির্ধারিত দর থেকে অনেক কম দামে গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ী, খুচরা সংগ্রাহক এবং সাধারণ বিক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কাঠামোগত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে বাধা, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, সীমিত ক্রেতা সংখ্যা, পাশাপাশি ট্যানারি ও আড়তদারদের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অস্বচ্ছতা। এছাড়া কাঁচা চামড়ার রপ্তানি সীমিত থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, রপ্তানি সক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেশের চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত চামড়া ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুত না হওয়ায় স্থানীয় চামড়া দিয়ে তৈরি পণ্য অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না।
গবেষণা সংস্থার একজন অর্থনীতিবিদ মনে করেন, দেশে চামড়ার ক্রেতা সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বড় আকারের ক্রয় কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়াই বাজার সংকটকে আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে রপ্তানি নীতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
গত এক দশকে গরুর চামড়ার সরকারি নির্ধারিত দামও ধারাবাহিকভাবে কমে এসেছে। তবে বাস্তবে বাজারদর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে লবণযুক্ত চামড়ার উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচও উঠে আসছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, বাজারে আড়তদার ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে দর নির্ধারণে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও পরিবেশগত সনদ না থাকায় রপ্তানি বাজার সংকুচিত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ দামে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোরবানির মৌসুমে চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রপ্তানিমুখী করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উপযুক্ত নীতি সহায়তা, রপ্তানি বাজার উন্মুক্তকরণ এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে দেশের সম্ভাবনাময় এই শিল্প আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।