Saturday, April 25, 2026

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উচ্চ ঝুঁকিতে, উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


ছবিঃ সারা দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি দেশটির পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

ডব্লিউএইচওর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় ইতোমধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানে ঘাটতি এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা—এসব কারণেই ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে শতাধিক, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি বা পূর্ণ ডোজ পায়নি, যা সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায়, বিশেষ করে বস্তিগুলোতে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। দেশের সব বিভাগেই সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, হামের সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায় এবং এটি বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে আগে অর্জিত সাফল্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা, রোগ শনাক্তকরণ জোরদার করা এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, টিকাদানের কভারেজ বাড়ানো, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন