Monday, June 8, 2026

আয়কর ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের উদ্যোগ, বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমা


প্রতীকী ছবিঃ বাজেট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে দীর্ঘমেয়াদি আয়কর পরিকল্পনা প্রণয়নের পথে হাঁটছে সরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো ব্যক্তি করদাতাদের জন্য একটি আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে আগামী কয়েক বছরের করমুক্ত আয়সীমা ও কর কাঠামো সম্পর্কে নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকলেও তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী কয়েক অর্থবছরে এই সীমা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার আগে করদাতাদের মধ্যে করহার ও করমুক্ত আয়ের সীমা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সেই পরিস্থিতি কমাতে সহায়ক হবে। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৪ লাখ টাকা এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে আরও বাড়ানো হতে পারে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে করমুক্ত আয়সীমা আরও দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে কর নীতিতে বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।

এদিকে সম্পদের ওপর পৃথক সম্পদ কর আরোপের আলোচনা থাকলেও আপাতত বিদ্যমান সারচার্জ ব্যবস্থাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি নিট সম্পদের মালিকদের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সারচার্জ প্রযোজ্য থাকবে।

অন্যদিকে উৎসে কর ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, উৎসে কাটা করকে আর চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করা হবে না। বরং করদাতারা বার্ষিক কর নির্ধারণের সময় প্রকৃত করদায়ের সঙ্গে উৎসে পরিশোধিত কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। অতিরিক্ত কর পরিশোধ হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়া বা পরবর্তী করবর্ষে সমন্বয় করার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি আয়কর রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের কর ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় এবং করদাতাদের জন্য প্রকৃত স্বস্তি নিশ্চিত করার ওপর।

আসন্ন বাজেটে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে ব্যক্তি করদাতা ও ব্যবসায়িক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন