- ১১ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা নিয়ে ফুটবলভক্তদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতোমধ্যে স্কোয়াড জমা দেওয়ার সময়সূচি ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে।
ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১১ মে’র মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দিতে হবে। এই তালিকায় কমপক্ষে ৩৫ জন এবং সর্বোচ্চ ৫৫ জন ফুটবলারের নাম রাখা যাবে। পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক ও টিম ম্যানেজারসহ সর্বোচ্চ ৭৫ জন কর্মকর্তার তথ্যও জমা দিতে হবে।
তবে এই প্রাথমিক তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না। মূলত টুর্নামেন্টের আগে ইনজুরি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ রাখতে এই তালিকা ব্যবহার করা হবে। কোনো ফুটবলার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে চোটে পড়লে কেবল এই তালিকা থেকেই বদলি নেওয়া যাবে।
ক্লাব ফুটবল থেকে খেলোয়াড় ছাড়ার বিষয়েও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছে ফিফা। আগামী ২৫ মে’র মধ্যে ক্লাবগুলোকে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিতে হবে। যদিও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল, উয়েফা ইউরোপা কনফারেন্স লিগ ফাইনাল ও কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ফাইনাল–এ অংশ নেওয়া ফুটবলারদের জন্য কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে।
চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত। প্রতিটি দেশকে ২৩ থেকে ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা দিতে হবে। আগের বিশ্বকাপের মতো এবারও ২৬ সদস্যের স্কোয়াড রাখার অনুমতি বহাল রেখেছে ফিফা।
ফিফা জানিয়েছে, আগামী ২ জুন সব দলের অনুমোদিত চূড়ান্ত স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যদিও অনেক জাতীয় দল এর আগেই তাদের দল ঘোষণা করতে পারে, তবে ফিফার অনুমোদনের পরই তা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে।
এদিকে খেলোয়াড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ফিফা। চূড়ান্ত তালিকায় থাকা কোনো খেলোয়াড় গুরুতর ইনজুরি বা অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে কেবল তাকে বদলানো যাবে। তবে সেই পরিবর্তন দলগুলোর প্রথম ম্যাচ শুরুর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া বদলি হিসেবে নেওয়া খেলোয়াড়কে অবশ্যই আগের জমা দেওয়া প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে। ফিফার মেডিক্যাল টিম সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা যাচাই করে অনুমোদন দিলেই কেবল বদল কার্যকর হবে।
আগামী বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় এবারের আসরে সর্বমোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরগুলোর একটি।