Tuesday, April 28, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: ডিজিটাল প্রমাণে মিলছে পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত


ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্রে নিহত জামিল ও নাহিদা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

যুক্তরাষ্ট্রে University of South Florida-এ অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণে ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে দেখার যথেষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন অ্যাপার্টমেন্টের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক কার্যক্রম রেকর্ড হয়। সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে একটি ডুপ্লিকেট কি-কার্ড তৈরি ও ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিকল্পিত প্রবেশের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় ভুক্তভোগী জামিল লিমন বাসায় ছিলেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

একই সময়ে অ্যাপার্টমেন্টের স্মার্ট নিরাপত্তা প্যানেলে নাহিদা বৃষ্টির একাধিকবার প্রবেশের চেষ্টা বা অস্বাভাবিক ব্যবহারও শনাক্ত হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনি হয়তো কোনো বিপদের মুখে পড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাহিদা বৃষ্টিকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহর সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট ত্যাগ করতে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না, যা জোরপূর্বক বা চাপের মধ্যে থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের বাসার চাবি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়নি। তবে ডিজিটাল অ্যাক্সেস লগ বিশ্লেষণে সন্দেহভাজনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির প্রমাণ মিলেছে। তার ব্যবহৃত ডিভাইস থেকে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ এবং ইলেকট্রনিক লক ব্যবহারের নির্দেশিকা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এই প্রমাণগুলো আদালতে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি প্রিমেডিটেটেড মার্ডার’ বা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনায় বাংলাদেশে থাকা ভুক্তভোগীদের পরিবার গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সহপাঠীরাও দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।

ঘটনাটি শিক্ষার্থী আবাসনের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক অ্যাক্সেস ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো ঘটনার টাইমলাইন ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন