- ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
উচ্চমাধ্যমিকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে একক ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সেশনজট কমাতে পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় এইচএসসি পরীক্ষাও আগেভাগে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি ফল প্রকাশের পরপরই যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বড় চাপ পড়ে। যদিও কয়েক বছর আগে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, তবুও সব বিশ্ববিদ্যালয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়াও হবে আরও স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে এইচএসসি পাস করা প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় ভর্তি প্রক্রিয়ায় নষ্ট হয়। এই সময় কমিয়ে আনতে পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনতে হলে ফরম পূরণ, প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তবুও সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
এদিকে একক ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত মতামত দেয়নি ইউজিসি। তবে আলোচনার অগ্রগতি হলে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সময় ও ব্যয় কমাতে এবং সেশনজট দূর করতে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।