- ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভয়েস-টু-টেক্সট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় নতুন ধরনের ডিকটেশন ডিভাইস বাজারে আনছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এই ধারায় সম্প্রতি SpeakOn নামের একটি ছোট ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা, যেখানে দেখা গেছে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
SpeakOn মূলত একটি হালকা, ছোট আকারের ডিভাইস, যা ম্যাগসেফ প্রযুক্তির মাধ্যমে আইফোনের পেছনে সংযুক্ত করা যায়। মাত্র ২৫ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসটি ব্যবহারকারীদের জন্য বহনযোগ্যতা সহজ করে তুলেছে। এটি একটি পৃথক মাইক্রোফোন ব্যবহার করে, ফলে ফোনের নিজস্ব মাইক্রোফোনের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
ডিভাইসটির সঙ্গে থাকা iOS অ্যাপটি কিবোর্ড আকারে কাজ করে, যা বিভিন্ন অ্যাপে ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারকারী একটি বোতাম চাপ দিয়ে কথা বলা শুরু করতে পারেন এবং ছেড়ে দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেক্সটে রূপান্তরিত হয়। সফটওয়্যারটি অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিয়ে টেক্সটকে তালিকা আকারেও সাজাতে পারে।
তবে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ডিভাইসটির মাইক্রোফোন আশানুরূপ পারফরম্যান্স দিতে পারেনি। প্রায় দুই ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকলেও আশেপাশের শব্দের কারণে ভয়েস সঠিকভাবে ধরা পড়েনি। ফলে ভবিষ্যৎ সংস্করণে উন্নত মানের মাইক্রোফোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
এছাড়া সফটওয়্যারের স্বয়ংক্রিয় ভাষা সম্পাদনা বা টোন পরিবর্তনের ফিচারও সব সময় কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারকারীর মূল বক্তব্য পরিবর্তন করে ফেলেছে, যা কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকে এই ফিচার বন্ধ করে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন।
আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, ডিভাইসটি বর্তমানে শুধুমাত্র iOS প্ল্যাটফর্মে কার্যকর; কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসে সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। ফলে যারা একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়।
ডিভাইসটি অনুবাদ সুবিধাও দেয়, যেখানে ইংরেজি ছাড়াও জাপানি, কোরিয়ান, চীনা, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা সমর্থন করে। ব্যাটারি সক্ষমতা অনুযায়ী এটি টানা ১০ ঘণ্টা ব্যবহার করা সম্ভব হলেও বাস্তবে স্ট্যান্ডবাই সময় প্রত্যাশার তুলনায় কম পাওয়া গেছে।
SpeakOn-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৯ ডলার, যেখানে সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দ ডিকটেশন সুবিধা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য মাসিক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডিকটেশন ডিভাইসের বাজারে এটি একটি নতুন উদ্যোগ হলেও সফল হতে হলে প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং হার্ডওয়্যারের মান আরও বাড়াতে হবে।