- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ঘিরে চলমান ‘কমপ্লিট অ্যাকাডেমিক শাটডাউন’-এর কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো একাডেমিক কার্যক্রম। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের মূল কারণ পদোন্নতির নীতিমালা নিয়ে মতপার্থক্য। শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের প্রণীত নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি দাবি করছেন। তবে সরকার ২০১৭ সালে একটি অভিন্ন নীতিমালা চালু করে, যা পরবর্তীতে ২০২১ সালে অনুমোদন পায়। দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই নীতিমালা অনুসরণ করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে শিক্ষকদের আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, নিয়মের বাইরে পদোন্নতি দিলে তা পরবর্তীতে বাতিল হতে পারে, এমনকি সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে।
উপাচার্য আরও জানান, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কমিটির বেশিরভাগ সদস্য পদত্যাগ করায় প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। ফলে দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় সনদপত্র পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন সীমিত আকারে কিছু সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বর্তমান অবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকলে তা আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে প্রশাসন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, মূলত পদোন্নতির দাবিকেই সামনে রেখে এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন শিক্ষার্থীরা।