- ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদোন্নতি ও নীতিমালা জটিলতাকে কেন্দ্র করে ‘পূর্ণ একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও শিক্ষকরা সরে দাঁড়ানোয় ক্যাম্পাস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। এতে প্রশাসনের উদাসীনতা ও অনিয়মকে দায়ী করছেন তারা। পদোন্নতির দাবিতে গত ১০ এপ্রিল উপাচার্যকে আলটিমেটাম দেওয়া হলেও কোনো সমাধান না আসায় ১৯ এপ্রিল একজন সহযোগী অধ্যাপকের আমরণ অনশনের মাধ্যমে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। পরবর্তীতে অনশন প্রত্যাহার করে পূর্ণ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।
এই সংকটের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নতুন নীতিমালাকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়। ইউজিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও ইউজিসির নির্দেশনার মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থমকে গেছে।
শিক্ষকদের দাবি, অনুমোদিত নীতিমালা ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে ভবিষ্যতে ডিগ্রি ও নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে উপাচার্য জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং পরবর্তীতে প্রণীত সরকারি নির্দেশিকার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি কাজ করছে। তবে কমিটির কিছু সদস্য পদত্যাগ করায় কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় নতুন শিক্ষক নিয়োগও বিলম্বিত হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধান হলে নিয়োগ ও পদোন্নতি উভয়ই দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এদিকে শাটডাউনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
ইউজিসি সদস্যরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরুতে নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করায় এ ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, আইন ও বিধিমালার বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে প্রশাসন, শিক্ষক ও ইউজিসির মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।