- ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় এক সাবেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বৈত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতরা হলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ChatGPT-এর কাছে লাশ গুম সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি জানতে চেয়েছিলেন প্লাস্টিকের ব্যাগে লাশ রেখে ফেলে দিলে কী হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে তা শনাক্ত করতে পারে।
পুলিশ জানায়, ১৭ এপ্রিল অভিযুক্তকে একটি ডাম্পস্টারের কাছে সন্দেহজনকভাবে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে নিহত লিমনের পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা কিছু আলামতে তার ডিএনএ পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পা শহরের কাছে Howard Frankland Bridge সংলগ্ন এলাকা থেকে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান চালিয়ে কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনিও নিহত হয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে তিনি ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, ভিকটিমের বাসা থেকে রক্তের দাগ এবং পরিষ্কার করার বিভিন্ন উপকরণ কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী পারিবারিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্মৃতিচিহ্ন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং শিগগিরই তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।