Thursday, October 8, 2026

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে ১ হাজার ৮৬০ যোদ্ধা নিষ্ক্রিয়ের দাবি সরকারের


ছবিঃ ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইয়েমেন সরকারের সমর্থক ‘সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেড’-এর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া এই স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, তাইজ প্রদেশে হুথিদের সাথে সংঘর্ষের সময় একটি ‘টেকনিক্যাল’ পিকআপ ট্রাকের পেছনের অংশে বসানো টার্রেট থেকে একজন যোদ্ধা গুলি চালাচ্ছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী। চলমান এই অভিযানে হুতিদের ১ হাজার ৮৬০ যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ২ হাজার ১০৩টি নির্ভুল হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র এসব তথ্য জানান। ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে হতাহতের এই হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি গত রোববার হুতিদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ অভিযানের ঘোষণা দেন। এর আওতায় রাজধানী সানাসহ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি-সংলগ্ন এলাকা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে বাণিজ্যিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ অঞ্চলের আল-ওয়াজিয়াসহ প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং মোচা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান শুরু করে সরকারপন্থী বাহিনী। এর আগে সেপ্টেম্বরে মোচা শহরটি হুতিদের দখলে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও হুতিদের অবস্থানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। বুধবার জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাদা, হোদেইদা, আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে হুতিদের ৮২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান, সাদায় পাহাড়ের ভেতরে থাকা ১১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতকেন্দ্র, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অস্ত্রের গুদাম ছিল বলে জানানো হয়।

সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নতুন সামরিক অভিযান শুরুর আগে মঙ্গলবার ও বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। অন্যদিকে, আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন