- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সাধারণ মানুষ ঝুঁকছে সঞ্চয়পত্রের দিকে। নির্দিষ্ট আয়, কম ঝুঁকি এবং সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে এটি এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর-এর আওতায় বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো—পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র মূলত নারীদের জন্য নির্ধারিত, আর অন্য স্কিমগুলোতে ব্যক্তি ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মূলধন নিরাপদ থাকা। এটি সরাসরি সরকারের দায় হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অর্থ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন না। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের মতো ওঠানামা না থাকায় এটি তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিয়োগ মাধ্যম।
ব্যাংকের আমানতের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বেশি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। কিছু স্কিমে নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা উত্তোলনের সুযোগ থাকায় নিয়মিত নগদ প্রবাহও নিশ্চিত হয়, যা মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
ডিজিটাল পদ্ধতির প্রসার ঘটায় এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা আরও সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসে কর কেটে নেওয়ার ফলে কর সংক্রান্ত জটিলতাও কম।
তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী মাঝপথে সঞ্চয়পত্র ভেঙে নগদ অর্থ তুলে নিচ্ছেন—এমন প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য স্কিমে একক বা যৌথ নামে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিমুক্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের কারণে সঞ্চয়পত্র এখনও ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।