- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। খুচরা দোকানগুলোতে যেখানে আগে পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল পাওয়া যেত, সেখানে এখন সীমিত সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য নেওয়ার শর্তে তেল সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তারা চাপে পড়েছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সামনে কোরবানির ঈদকে ঘিরে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে আমদানি ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ টন, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে আড়াই লাখ টনের কাছাকাছি। অন্যদিকে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় সয়াবিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে, যার বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর। ফলে আমদানি কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় আমদানিতে আগ্রহ কমে গেছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই নতুন করে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম বাড়তির দিকে। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে, যা স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি প্রায় ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত নীতিগত সমন্বয় ও বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি, নইলে আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।