Thursday, February 5, 2026

টিকটক থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান আওদা


ফাইল ছবিঃ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান আওদা (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান আওদা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মালিকানা কাঠামোয় নতুন বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কয়েক দিনের মধ্যেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বিসান বলেন, চার বছর ধরে গড়ে তোলা তার টিকটক প্ল্যাটফর্মটি কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই মুছে ফেলা হয়েছে। সেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ লাখ।

ভিডিও বার্তায় গাজা থেকে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আগের মতো হয়তো সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ করা হবে, কিন্তু এবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

বিসান আওদা আল জাজিরার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম AJ+-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়মিতভাবে তুলে ধরতেন। তার ভিডিওগুলোর একটি পরিচিত বাক্য ছিল— “আমি বিসান, গাজা থেকে বলছি, এবং আমি এখনও বেঁচে আছি।” এই বাক্যটি বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের কাছে গাজার বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

আল জাজিরা সূত্র জানায়, বিসানের অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিষয়ে টিকটকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আল জাজিরার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিসানের নামে একটি অ্যাকাউন্ট অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু অঞ্চলে দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সেটি আর দৃশ্যমান নয়। এতে আঞ্চলিক ভিত্তিতে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

নিজের ভিডিওতে বিসান ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য এবং টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কিছু মন্তব্যের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার যোগসূত্র থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, টিকটক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি আলাদা সংস্করণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। নতুন ব্যবস্থাপনায় ‘ঘৃণাত্মক বক্তব্য’ নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে, যা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিসান আওদার সাংবাদিকতা শুধু সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি AJ+-এর জন্য নির্মিত তথ্যচিত্র “ইটস বিসান ফ্রম গাজা”-এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে ‘আউটস্ট্যান্ডিং হার্ড নিউজ ফিচার স্টোরি’ বিভাগে এমি পুরস্কার অর্জন করেন।

এই ঘটনার মধ্যেই ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত আবারও গাজায় স্বাধীনভাবে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ ও প্রতিবেদন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়েছে। চলমান যুদ্ধ ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় তিনজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হন।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় অন্তত ২০৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি হামলার শিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, বিসান আওদার টিকটক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি যুদ্ধকালীন তথ্যপ্রবাহ, ডিজিটাল সেন্সরশিপ এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধের একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন