- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সুদানের দক্ষিণ করদোফান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিলিংয়ে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ড্রোন হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। বুধবার চালানো এই হামলায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ডিলিং শহরের কেন্দ্রীয় বাজার এলাকা এবং সুদানি সেনাবাহিনীর ৫৪তম ব্রিগেডের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। চিকিৎসক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বরাতে জানানো হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন এর ঠিক এক দিন আগে সরকারপন্থী সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা প্রায় দুই বছর ধরে চলা আরএসএফের অবরোধ ভেঙে ডিলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহ পথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।
ডিলিং শহরটি দক্ষিণ করদোফানের অবরুদ্ধ রাজধানী কাদুগলি এবং উত্তর করদোফানের রাজধানী এল-ওবেইদের মাঝামাঝি একটি কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে আরএসএফের ঘেরাও কৌশলের আওতায় ছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং কোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। অবরোধ শিথিল হওয়ার পর থেকেই ডিলিং শহরে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চলছে, যাতে বিভিন্ন সেবা স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সামরিক সূত্রের দাবি, নতুন করে অবরোধ আরোপের লক্ষ্যেই আরএসএফ এই হামলাগুলো চালাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং নিকটবর্তী হাবিলা এলাকায় আরএসএফের হামলা প্রতিহত করছে।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যেই সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জরুরি ভিত্তিতে মানবিক করিডোর চালুর আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিলিংয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওষুধ, খাবার এবং বিশেষ করে স্যালাইনসহ জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
খার্তুম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর গত মার্চ মাস থেকে আরএসএফ করদোফান অঞ্চল এবং দারফুরের এল-ফাশের শহরে আক্রমণ জোরদার করেছে। অক্টোবর মাসে এল-ফাশের দখলের পর সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, ডিলিংয়ে চরম খাদ্যসংকট বিরাজ করলেও তথ্যের অভাবে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়নি। তবে জাতিসংঘ সমর্থিত এক মূল্যায়নে কাদুগলিতে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অবরোধ চলছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত অক্টোবরের পর থেকে করদোফান অঞ্চল থেকে অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই যুদ্ধকে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকট হিসেবে বর্ণনা করছে।
সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে সুদানে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। সহিংসতা থেকে পালিয়ে অনেকে প্রতিবেশী চাদে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যেই আট লাখের বেশি সুদানি শরণার্থী অবস্থান করছে। যদিও তারা তুলনামূলক নিরাপদ, তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।