- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই নির্বাচন অর্জন করতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পনের বছর আন্দোলন চালাতে হয়েছে, ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ১ হাজার ৭০০ জন গুম হয়েছে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো জুলুম ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে বহু মানুষকে। এই সংগ্রামের মাধ্যমে তারা অবশেষে ভোটাধিকার পেয়েছে। তাই এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীগঞ্জ বাজার ও নীমবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এর আগে শহরের মানবকল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঠাকুরগাঁও ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ফখরুল বলেন, তারা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। তিনি বলেন, যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশকে ক্ষতি করছে। তিনি জনগণকে একসঙ্গে এগোতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি আমরা সবাই একসাথে চলি, তবে কেউ আমাদের বাধা দিতে পারবে না।”
ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে উন্নত করা হবে, ইপিজেড গড়ে কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে, মেডিক্যাল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হবে, এবং বিমানবন্দর কার্যকর করা হবে।
তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “এবার নৌকা মার্কা নেই। এবার দাঁড়িপাল্লা আসছে। তাদের আমরা অনেকেই চিনি না। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেই সময়ে বহু মানুষ নিহত হয়েছিল, মা-বোনদের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়েছিল। যারা তখন দেশকে মানতে চায়নি, তাদেরকে আমরা ভোট দিতে পারব না।”
জামায়াত ও তাদের নেতা মওদুদীকে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “মওদুদী জামায়াতের নেতা ছিলেন। তিনি ইসলামের নতুন তত্ত্ব প্রবর্তন করেছিলেন, যা আমাদের ধর্মমতে গ্রহণযোগ্য নয়। যারা ধর্মের বাইরে গিয়ে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, আমরা তাদের মেনে নিতে পারি না।”
মতবিনিময় সভায় ফখরুল আরও বলেন, “এবার আমাদের একটি সুযোগ এসেছে। আমরা যদি সঠিকভাবে এটি কাজে লাগাই, তবে সঠিক নেতাকে নির্বাচন করতে পারব। আমি বলছি না আমাকে ভোট দিন, তবে যদি মনে করেন ভোট দিলে সঠিক জায়গায় যাবে, তাহলে ভোট দিন।”