- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতিকালে একটি বাড়ি থেকে ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (সিপিসি-১) টেকনাফ ক্যাম্প। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন ব্যক্তিকে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বাড়িতে আটকে রেখেছে। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন পাচারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের সবাই অক্ষত অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামা এলাকার জাফর আলম, নুরুল হুদা, শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, বেলাল, রফিকুল ইসলাম, সাফায়েত হোসেন ও আরেকজন জাফর আলম রয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর ও টেকনাফ এলাকার মামুনুর রশিদ, তাফসির, আশরাফ হোসেন, বাবুল, আনসার উদ্দিন, নুরুল আফসার, সাইফুল ইসলাম, জোবায়ের ও নুর মোস্তফাসহ আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পেরেছে, আর্থিক লাভের আশায় একটি চক্র এসব মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে জড়ো করেছিল। তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং সেখানে জবরদস্তিমূলক শ্রমে নিয়োজিত করার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।