- ১৫ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে ভুলবশত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্যসেবার মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় হাইকোর্টও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ মাস বয়সী এক শিশুকে নিয়মিত হামের টিকা দিতে নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযোগ ওঠে, দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা ভুলক্রমে শিশুটিকে দুই ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি সামনে আসে।
শিশুর পরিবার দাবি করেছে, টিকা প্রয়োগ করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। যদিও ওই দায়িত্বে অন্য একজন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নির্দেশেই অবসরের কাছাকাছি থাকা ওই কর্মীকে এনে টিকা প্রয়োগ করানো হয়।
ঘটনার পর শিশুর স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও ওঠে। এতে হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই শিশুদের টিকা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আদালত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
একইসঙ্গে শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।
রিটকারীদের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, আদালত শিশুটির সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বলেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশুদের টিকাদানে অভিভাবকদের আগ্রহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকা ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের ভুল সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।