- ০১ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: সমীরণ অধিকারী
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)-এর সভাপতি হিসেবে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার ও সংগঠক কাজী সালাউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সাফ কংগ্রেসে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তার নেতৃত্ব আরও চার বছরের জন্য অব্যাহত থাকছে।
নির্বাচনে সভাপতির পদে কাজী সালাউদ্দিন ছাড়া আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি সদস্য দেশের সমর্থন নিয়ে তিনি আবারও সাফের নেতৃত্বে ফিরলেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ সালাউদ্দিনের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০০৯ সালে প্রথমবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬ সালে টানা পঞ্চমবার একই পদে নির্বাচিত হলেন কাজী সালাউদ্দিন। তার নেতৃত্বে গত এক দশকেরও বেশি সময়ে সাফে নারী ফুটবল, বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানো এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ কংগ্রেসে শুধু নির্বাচনই নয়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বাইরে থাকা নেপালকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সাফ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে দেশটি।
পুনর্নির্বাচনের পর সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক করে তুলতে সব সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মানোন্নয়ন, নারী ও যুব ফুটবলের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই হবে নতুন মেয়াদের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের ফুটবল প্রশাসনের জন্য এই পুনর্নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও একটি মেয়াদ ধরে রাখায় আঞ্চলিক পর্যায়ে দেশের প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সাফকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও এখন কাজী সালাউদ্দিনের কাঁধে।