Saturday, August 1, 2026

জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের খবর প্রত্যাখ্যান করল হুথি বিদ্রোহীরা


ছবিঃ ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব উপকূলের কাছে নৌকা ভাসছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল আগের মতোই উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে থাকবে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের পরিচালিত ‘নিরাপদ ট্রানজিট সেবা’ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং এর জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। কেউ জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ দাবি করলে তিনি ইয়েমেন বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করেন না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানিগুলোকে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান না করার এবং সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান সমর্থিত হুথিরা। প্রতিবেদনে আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, জুলাইয়ের শুরুতে হুথিদের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং ফি আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরিতে ইরানি পরামর্শ নেওয়া হতে পারে।

বাব আল-মানদেব প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথে যেকোনো ধরনের বাধা বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ইরানের হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ব্যাহত হয়েছে।

ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনোনীত কর্মকর্তা আফরাহ আল-জুবা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, হুথিরা ইরানের মডেল অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে হুথিদের তৎপরতা নতুন নয়। ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিল সংগঠনটি। গত বছরের একটি যুদ্ধবিরতির পর হামলা কিছুটা কমলেও, ওই অঞ্চলের নৌপথে স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।

জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে হুথিরা জাহাজ এজেন্টদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায় করে থাকতে পারে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ১৪ দেশের সমন্বয়ে একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জোটটি এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন