- ০১ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন, যাদের মধ্যে চারটি শিশুও রয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) ভোরে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, হামলার সময় শহরজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলায় শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়ে। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকজন মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি গুদামেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
এটি চলতি সপ্তাহে কিয়েভে দ্বিতীয় বড় ধরনের রুশ হামলা। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের ওপর বড় ধরনের হামলার সময় একটি সন্দেহভাজন রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ এলাকার কাছে একটি গ্রামে একই পরিবারের ছয় সদস্যসহ মোট ৯ জন নিহত হন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের অন্যতম ভরসা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে বর্তমানে কিয়েভে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলাবারুদের সংকট রয়েছে।
রুশ হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। বিশেষ করে রুশ তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে কিয়েভ।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, এমন প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে সতর্ক থাকতে হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি অন্য কোনো দেশের কাছে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।