Saturday, August 1, 2026

দুর্নীতি মামলায় ১৫ বছরের সাজা বাতিল, কারামুক্ত পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালা


ছবিঃ পেরুর সাংবিধানিক আদালত অর্থ পাচারের দায়ে তাঁর ১৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করার পর, পেরুর লিমায় বারবাদিলো কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালা। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /লেসলি মোরেনো/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দুর্নীতি মামলায় দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিলের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালা। দেশটির সাংবিধানিক আদালত ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখট (বর্তমানে নোভোনর নামে পরিচিত) সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি মামলার রায় বাতিল করায় মুক্তি পান তিনি।

৬৪ বছর বয়সী হুমালা লিমার পূর্বাঞ্চলের একটি বিশেষ কারাগারে বন্দি ছিলেন। ওই কারাগারে পেরুর কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতাকেও আটক রাখা হয়েছে।

গত বছর হুমালা ও তাঁর স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী প্রচারণায় ওডেব্রেখট এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছিলেন তারা।

তবে সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে, হুমালার বিরুদ্ধে পুরো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। আদালতের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। রায়ে বলা হয়, যে সময়ের ঘটনায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তখন ওই ধরনের রাজনৈতিক অনুদান গ্রহণকে আইন অনুযায়ী অর্থপাচার হিসেবে বিবেচনা করা যেত না।

হুমালার আইনজীবী উইলফ্রেডো পেদ্রাজা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা এই রায়কে “অনেক সন্তুষ্টির সঙ্গে” গ্রহণ করেছেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওডেব্রেখট দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া প্রথম পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট তিনি। এই কেলেঙ্কারিতে দেশটির আরও তিন সাবেক প্রেসিডেন্টের নামও জড়িয়েছে।

মামলার রায় চ্যালেঞ্জ করতে হুমালা ‘হ্যাবিয়াস করপাস’ আবেদন করেছিলেন। আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করে জানায়, তাঁকে যে অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, সেটির আইনি ভিত্তি যথেষ্ট ছিল না।

এদিকে, হুমালার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়া বর্তমানে ব্রাজিলে আশ্রয় নিয়েছেন।

ওডেব্রেখট দুর্নীতি কেলেঙ্কারি লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় দুর্নীতি ঘটনা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে এবং প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শুধু পেরুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে অন্তত ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিল তারা। এই কেলেঙ্কারির প্রভাব দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন