Sunday, August 2, 2026

শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি: ডব্লিউএমও


ছবিঃ এল নিনো-জনিত শুষ্ক মৌসুমের কারণে এ বছর বিশ্বজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /উলেট ইফানসাস্টি/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো। আগামী কয়েক মাসে এই জলবায়ু প্রবণতার প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থাটির শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত করতে পারে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে বন্যা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি আর দূরের কোনো আশঙ্কা নয়; বরং এর প্রভাব ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত উষ্ণতা বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

জাতিসংঘ মহাসচিব জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প সম্প্রসারণ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় অতিরিক্ত গরমের প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে।

ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো সম্পর্কে আগাম সতর্কতা থাকলেও শুধু পূর্বাভাস যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিজে থেকে দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না, তবে মানুষের নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছরের শেষ ভাগে এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। যদিও কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন