- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান ঠিক এক বছর আগে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের সঙ্গে তাঁর সেই বিয়ে নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিন কয়েক আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তাহসান। তবে সময় গড়ানোর আগেই সেই সম্পর্কের পরিসমাপ্তির খবর এলো।
গত শনিবার তাহসান নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, তাঁর ও রোজা আহমেদের সংসার আর টিকে নেই। বিচ্ছেদের এই খবরে ভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—প্রেমের পর বিয়ে, তারপর এত দ্রুত কেন আলাদা পথ?
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রেমের সময় তুলনামূলক দীর্ঘ হলেও বিয়ের পর একসঙ্গে থাকার সময়টা ছিল বেশ সীমিত। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই দুজন আলাদা থাকা শুরু করেন। ওই সময় অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত সফরে যাওয়ার আগে তাহসান প্রকাশ্যে জানান, তিনি গান থেকে বিরতি নিতে চান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।
পরে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আগে থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। যদিও রোজা আহমেদ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে ছবি ও আবেগঘন বার্তা শেয়ার করায় অনেকেই ভেবেছিলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহসান ও রোজার কাছের মানুষজন জানান, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আরও ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবন। সংসারকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে তিনি বিনোদন জগত ও অনলাইন উপস্থিতি থেকে দূরে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর নতুনভাবে বিস্তৃত হয়। এই নতুন জীবনধারাকে তিনি উপভোগ করছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধরন ধীরে ধীরে দুজনের মাঝে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।
ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে মতের অমিল আর এড়ানো সম্ভব হয়নি। কোনো অভিযোগ বা দোষারোপ ছাড়াই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। গত বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
তাহসানের এটি দ্বিতীয় বিবাহ ছিল। তাঁর আগের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত এই শিল্পী বর্তমান পরিস্থিতিতেও নীরবতা বজায় রেখেছেন।
ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বিচ্ছেদ হলেও বিষয়টি দুজনই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সামলেছেন। পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গেছে। এই বিচ্ছেদকে তাঁরা দেখছেন দোষারোপ নয়, বরং জীবনের বাস্তবতায় ভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে।