- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠলেও এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান জানান, ফল প্রকাশের বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও গুজব। তবে যত দ্রুত সম্ভব ফল প্রকাশের লক্ষ্যেই অধিদপ্তর কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—ফল প্রকাশে যেন অযথা দেরি না হয়। সে অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার নাম ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নোটিশ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি তার নাম ভুল বানানে লেখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেউ প্রশ্নফাঁসের কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে গত ২ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ৯ জানুয়ারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা স্থগিতের পর থেকেই প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।