Wednesday, September 30, 2026

সরকারি গেজেটেই নতুন পে-স্কেলে যুক্ত হবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা


প্রতীকী ছবিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জারি করা গেজেটের মাধ্যমেই এমপিওভুক্ত জনবলের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে মত দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন নেই বলে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য যে গেজেট জারি হবে, সেটিই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ভাতা নিয়ে আলাদা কিছু বিষয় রয়েছে। অতীতে তাদের জন্য পৃথক গেজেট জারি করা হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা তারা পান না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নতুন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন বাড়বে, কিন্তু বিদ্যমান ভাতাগুলো আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। এসব বিষয় বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রয়োজনীয় কাজ করবে।

এদিকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি ও এমপিওভুক্ত কর্মীদের নতুন মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ। সংশ্লিষ্টদের জন্য মূলত ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় ওই গ্রেডের নির্ধারিত স্কেল জানা প্রয়োজন হবে।

নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত দুই ধরনের হিসাব পদ্ধতি থাকছে। যারা পুরোনো স্কেলের একেবারে প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের নতুন বেতন নির্ধারণ তুলনামূলক সহজ হবে। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের ধাপে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন স্কেলের মধ্যে ব্যবধান সমন্বয় করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

কোনো কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত তার পুরোনো বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকলে নতুন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারিত হবে। উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের কোনো কর্মচারী পুরোনো কাঠামোয় ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেলে এবং নতুন কাঠামোয় ওই গ্রেডের শুরু ২১ হাজার ৯০০ টাকা হলে, তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

তবে যারা পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে হিসাব কিছুটা ভিন্ন। প্রথমে পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন থেকে বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে। এরপর সেই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে।

ধরা যাক, কোনো কর্মচারীর ৩০ জুন পর্যন্ত মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং তার পুরোনো স্কেলের শুরু ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ব্যবধান দাঁড়াবে ১ হাজার ২৯০ টাকা। নতুন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন যদি ২৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে হিসাব অনুযায়ী নতুন বেতন দাঁড়াবে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা।

কিন্তু নতুন বেতন স্কেলে যদি ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো নির্ধারিত ধাপ না থাকে, তাহলে ওই অঙ্কে বেতন নির্ধারণ করা হবে না। তার পরিবর্তে পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপটি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ওই ক্ষেত্রে নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।

নিজের নতুন মূল বেতন সম্পর্কে ধারণা পেতে কর্মচারীদের প্রথমে ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত প্রারম্ভিক বেতন জেনে নিতে হবে। এরপর পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন ছিল কি না, তা বিবেচনা করে নির্ধারিত নিয়মে নতুন বেতন হিসাব করতে হবে।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভাতা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা মাউশির পরবর্তী নির্দেশনায় স্পষ্ট হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন