Wednesday, September 30, 2026

অ্যাপ স্টোরের বিকল্প হতে পারে চ্যাট জিপিটি, ডেভ ডেতে বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত ওপেন এআই-এর


প্রতীকী ছবিঃ চ্যাট জিপিটি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতে নিজেদের পরবর্তী বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে OpenAI। মঙ্গলবারের ডেভ ডে অনুষ্ঠানে নতুন মডেল ও এআই এজেন্টসহ একাধিক সেবা উন্মোচনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণাগুলো থেকে বোঝা গেছে, প্রচলিত অ্যাপ স্টোর ব্যবস্থার বাইরে সফটওয়্যার ব্যবহারের নতুন একটি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে OpenAI।

নতুন পরিকল্পনায় চ্যাট জিপিটি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বা কথোপকথনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকবে না। ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুঁজে পেতে, সেটি সংযুক্ত করতে এবং সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। OpenAI জানিয়েছে, বর্তমানে চ্যাট জিপিটি-এর সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী ১২০ কোটির বেশি।

কোনো কাজ সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ প্রয়োজন বলে চ্যাট জিপিটি বুঝতে পারলে কথোপকথনের মধ্যেই সেটির পরামর্শ দিতে পারবে। ব্যবহারকারী চাইলে সেখান থেকেই অ্যাপটি সংযুক্ত করে কাজ শুরু করতে পারবেন। এর ফলে কোনো কাজের জন্য আলাদা করে অ্যাপ স্টোরে গিয়ে সফটওয়্যার খোঁজার প্রয়োজন কমতে পারে।

এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে চ্যাট জিপিটি-এর প্লাগইন কাঠামোও সম্প্রসারণ করেছে OpenAI। নতুন ব্যবস্থায় ডেভেলপাররা ইন্টার‌্যাকটিভ প্যানেল তৈরি করতে পারবেন, যেখানে চ্যাট জিপিটি-এর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অ্যাপের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ আগে যেসব কাজ ওয়েবসাইট, ডেস্কটপ সফটওয়্যার কিংবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করতে হতো, তার একটি অংশ সরাসরি চ্যাট জিপিটি-এর ভেতরেই করা সম্ভব হবে।

OpenAI-এর নতুন উদ্যোগে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘সাইন ইন উইথ চ্যাট জিপিটি’ সুবিধাও থাকছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপে চ্যাট জিপিটি-এর পরিচয় ব্যবহার করে প্রবেশ করার পাশাপাশি নিজের বিদ্যমান এআই ব্যবহারের সুবিধা সঙ্গে নেওয়া যাবে। শুরুতে Cognition-এর Devin, Notion, Vercel, T3, OpenClaw ও Dactylসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগের অংশ হয়েছে। ভবিষ্যতে অংশীদারের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডেভ ডে অনুষ্ঠানে OpenAI তাদের নতুন মিটিং অ্যাপের একটি প্রদর্শনীও দেখিয়েছে। এতে ChatGPT ব্যবহারকারীর ক্যালেন্ডারের আসন্ন বৈঠক দেখতে পারবে। প্রয়োজন হলে বৈঠকের নোট তৈরি করা এবং সভা শেষে করণীয় বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপও প্রস্তুত করতে পারবে।

ডিজাইনভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা আনার উদাহরণ দেখানো হয়েছে। Figma ও Adobe-এর মতো প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে চ্যাট জিপিটি-এর ভেতর থেকেই কোনো প্রকল্পে পরিবর্তন আনা বা নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চ্যাট জিপিটি দিয়ে তৈরি হালকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব অ্যাপ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে। কোনো সহকর্মী সেখানে প্রবেশ করলে নিজের পরিচয় ও অনুমোদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন।

ডেভেলপারদের জন্য প্লাগইন পর্যালোচনা প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনছে OpenAI। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা তাদের প্লাগইনের পর্যালোচনার অগ্রগতি দেখতে পারবেন, কী সংশোধন প্রয়োজন তা জানতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে মানব পর্যালোচনার অনুরোধ করতে পারবেন। কোনো পরিবর্তন করতে গেলে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার প্রয়োজনও হবে না।

ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য আলাদা অ্যাপ মার্কেটপ্লেস চালুর কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে Adobe, Figma, HubSpot, Salesforce, ServiceNow, CrowdStrike, Palo Alto Networks, Harvey ও Legora-সহ ৩০টির বেশি অংশীদার সেখানে সেবা দিচ্ছে। যোগ্য গ্রাহকেরা OpenAI-এর সঙ্গে থাকা চুক্তির নির্দিষ্ট অংশ অনুমোদিত অংশীদারদের সফটওয়্যার ব্যবহারে কাজে লাগাতে পারবেন।

তবে OpenAI-এর পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো এআই এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির নতুন ‘ডটস’ নামের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে ওয়েবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। প্রতিটি ডটের নিজস্ব ক্লাউড কম্পিউটার ও ব্রাউজার থাকবে এবং সংযুক্ত অ্যাপ ব্যবহার করার সক্ষমতাও থাকবে।

এর ফলে ব্যবহারকারীকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য আগে থেকে কোন অ্যাপ প্রয়োজন তা খুঁজে বের করতে হবে না। বরং ব্যবহারকারী কাজটি কী চান তা জানালে এআই এজেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সফটওয়্যার বা সেবা ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। OpenAI জানিয়েছে, ডটস তাদের ইকোসিস্টেমে থাকা ৪ হাজারের বেশি অ্যাপের সঙ্গে সংযোগ করতে পারবে।

এজেন্টগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে সহায়তাও করতে পারবে। কোনো কাজ ভুলে গেলে মনে করিয়ে দেওয়া কিংবা কোনো প্রকল্পে সহায়তার প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য সমাধান সামনে আনার মতো কাজও করতে পারবে। তবে ব্যবহারকারীর অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

OpenAI-এর এই উদ্যোগে অ্যাপ নির্মাতাদের জন্যও নতুন ধরনের বিতরণব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। ব্যবহারকারী সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সেবা কিনে পরে সেটি চ্যাট জিপিটি বা Codex-এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। তবে অ্যাপ স্টোরের মতো আলাদা বিলিং বা রাজস্ব ভাগাভাগির কোনো ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা এখনো দেয়নি OpenAI।

ফলে ডেভ ডের ঘোষণাগুলো আপাতত অ্যাপ স্টোরের সরাসরি বিকল্পের চেয়ে চ্যাট জিপিটি-কেন্দ্রিক একটি নতুন সফটওয়্যার পরিবেশ তৈরির দিকেই বেশি ইঙ্গিত করছে। এখানে অ্যাপ খোঁজা, ব্যবহার, এআই সহায়তা এবং সফটওয়্যার পরিচালনার বড় একটি অংশ একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে OpenAI।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন