Wednesday, September 30, 2026

ভারতে চালু হলো অ্যাপল পে, শুরুতে সুবিধা পাবেন অ্যাক্সিস ব্যাংকের গ্রাহকেরা


ছবিঃ ‘অ্যাপল পে’ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে অ্যাপলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘অ্যাপল পে’। মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে সেবাটি চালু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক অ্যাক্সিস ব্যাংক অ্যাপল পের প্রথম ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

ভারতের বাজারে অ্যাপল পের প্রবেশকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির ডিজিটাল লেনদেনের বড় অংশই বর্তমানে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-নির্ভর। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি অন্য ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো যায়। বিপরীতে অ্যাপল পে মূলত কার্ডনির্ভর হওয়ায় এর কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংক ও পেমেন্ট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানের আলাদা সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাক্সিস ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আওতাভুক্ত যোগ্য কার্ড অ্যাপল পেতে যুক্ত করা যাবে। তবে ভারতের নিজস্ব রুপে (RuPay) কার্ড এখনো এই সেবার আওতায় আসেনি। একই সঙ্গে যেসব দোকান ও পেমেন্ট টার্মিনালে অ্যাপল পে ব্যবহারের সুবিধা চালু করা হয়েছে, সেখানেই আপাতত গ্রাহকেরা লেনদেন করতে পারবেন।

অ্যাপল জানিয়েছে, ভারতে লাখো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাপল পে গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ব্লিঙ্কিট, ক্রোমা, ইক্সিগো, রিলায়েন্সের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, টাটা ১এমজি ও জোমাটোর মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অ্যাপল পে ব্যবহারের অবকাঠামো তৈরিতে ক্যাশফ্রি, জাসপে, এমসোয়াইপ, পেটিএম, পেটিএম, পাইন ল্যাবস, রেজরপে ও ওয়ার্ল্ডলাইনের মতো পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে।

তবে ভারতের বিশাল ইউপিআই বাজারে অ্যাপল পের জায়গা তৈরি করা সহজ হবে না। ইউপিআইয়ে কার্ড ছাড়াই কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধ করা যায়। অন্যদিকে অ্যাপল পে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক ও পেমেন্ট অবকাঠামোকে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়।

এ ছাড়া অ্যাপল ও কয়েকটি বড় ব্যাংকের মধ্যে বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুরুতেই সব ব্যাংক এই সেবায় যুক্ত হয়নি। এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও এসবিআই কার্ড প্রাথমিকভাবে অ্যাপল পের সঙ্গে যুক্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অ্যাপল প্রতিটি লেনদেনে প্রায় ২০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২ শতাংশ ফি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ভারতে পেমেন্ট খাতের লেনদেন থেকে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আয় সাধারণত প্রায় ০.৪ থেকে ০.৫ শতাংশের মধ্যে থাকায় এই ফি নিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শুরুতে অ্যাক্সিস ব্যাংকের যোগ্য গ্রাহকেরা আইফোনের ‘ওয়ালেট’ অ্যাপে তাদের ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করে অনলাইন কেনাকাটা এবং সমর্থিত টার্মিনালে কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে সব জায়গায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে। কোনো পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী অ্যাপল পে সমর্থন করলেও সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের টার্মিনাল বা অধিগ্রহণকারী ব্যাংক সেবাটি চালু না করলে সেখানে লেনদেন ব্যর্থ হতে পারে।

ভারতে অ্যাপল পের যাত্রা শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটিতে আইফোনের বাজার ও উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি বাড়ছে। ২০২৫ সালে ভারতের স্মার্টফোন বাজারের মূল্যের হিসাবে অ্যাপলের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ, যা আগের বছর ২৩ শতাংশ ছিল বলে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্বের মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখন ভারতে হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে বৈশ্বিক আইফোন উৎপাদনের অংশ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

ফলে ভারতের ক্রমবর্ধমান আইফোন ব্যবহারকারী, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন ও প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মধ্যে অ্যাপল পে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ইউপিআইয়ের আধিপত্যের মধ্যেও এই গ্রাহকগোষ্ঠীকে ঘিরে ভারতের বাজারে অ্যাপল পের আলাদা একটি পরিসর তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন