- ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। লক্ষ্মীপুর
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার (১০) দেশে ফিরেছে। তবে সে এখনো জানে না—তার মা, বাবা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। পরিবারের সদস্যরা শোকাহত পরিবেশে তাকে এ মর্মান্তিক সংবাদ জানাতে পারছেন না।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নিজ বাড়িতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফাইজা সরল কণ্ঠে জানায়, ঈদে নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে মেলায় যাবে। তার দুই বোনও থাকবে পাশে। সবাই মিলে আনন্দ করবে। শিশুটির এমন সরল প্রত্যাশা উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকালে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হয় ফাইজা। সোমবার ভোরে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। সে স্থানীয় টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ফাইজা। এরপর জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসা শেষে তাকে দেশে আনা হয়। দুর্ঘটনায় তার বাবা সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), মা ও দুই বোনসহ মোট পাঁচজন নিহত হন।
মামা তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো বিশ্বাস করে তার বাবা-মা ও বোনেরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং শিগগিরই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। পরিবারের সদস্যরা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন তাকে সত্য জানাতে। এদিকে নিহতদের মরদেহ এখনো সৌদির একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। ওমরাহ শেষে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পরিবারের চার সদস্য। একমাত্র জীবিত ফিরে আসা ফাইজাকে ঘিরে এখন শোক ও বেদনার ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।