- ০৬ মার্চ, ২০২৬
PNN। নিউজ ডেস্ক ঢাকা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, জুলাই সনদের আলোকে সরকার যদি একজন ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তবে সেটি তখনই বৈধ হবে যখন গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যথায় এমন সিদ্ধান্তের কোনো বৈধতা থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকার বিধান রয়েছে। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী একজন স্পিকার এবং দুইজন ডেপুটি স্পিকারের কথা বলা হয়েছে, যেখানে একজন সরকারি দল থেকে এবং অন্যজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সরকার যদি বর্তমান সংবিধানের আওতায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাহলে জামায়াত তা আইনি দিক বিবেচনা করে দেখবে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়েও কথা বলেন তাহের। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা মার্কিন প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ হলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনায় জামায়াত যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যেকোনো দ্বন্দ্ব কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার প্রক্রিয়াকে ঘিরে আদালতে যে রিট করা হয়েছে, তার পেছনে সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাহের। তিনি বলেন, রিটের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং আদালতকে ব্যবহার করে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জামায়াত জনমত গড়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, অফিস-আদালত দখলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন আগের তুলনায় বেশি সচেতন হওয়ায় এসব চেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জামায়াত সরকার গঠন করতে পারত বলে তাদের বিশ্বাস। একই সঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জামায়াত মাঠে আরও শক্ত অবস্থান নেবে এবং সংসদের ভেতরেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।