- ০৬ জুন, ২০২৬
ঢাকা, ৬ জুন ২০২৬ | PNN Desk
রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকর্মী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খন্দকার শামীম।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সাংবাদিক আসিফ বিন আলির একটি পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে।
খন্দকার শামীম লেখেন, জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে অনেক মৌলিক দ্বিমত থাকলেও, তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংগঠনটির কৌশলগত প্রস্তুতি ও ধারাবাহিকতা স্বীকার করতে হয়। তাঁর মতে, ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে ধাপে ধাপে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার একটি সাংগঠনিক সংস্কৃতি তাদের মধ্যে বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোতেও বহু মেধাবী, সৎ ও সম্ভাবনাময় তরুণ কর্মী রয়েছেন। তবে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। ফলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যেসব তরুণ নেতাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে, অন্যান্য দলের অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ ও যুবক প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকতে পারেন না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শামীম বলেন, দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বিকাশের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক নেতা আজও বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ, যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব বিকাশের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।