- ৩০ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে আনা মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রোববার উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রস্তাব ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় তর্ক-বিতর্ক, হট্টগোল ও উত্তেজনা দেখা যায়।
অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন এবং তাৎক্ষণিক আলোচনার দাবি জানান। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কার্যসূচি অনুযায়ী এগোনোর কথা বলা হলে এ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখতে চাইলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তবুও সভাপতির অনুমতিতে তিনি বক্তব্য দিলে সংসদে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি এবং সংশোধন প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা দাবি করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় আনা উচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ একাধিক সদস্য গণভোট ও পূর্বের অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত আলোচনা শুরুর দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হট্টগোলের মধ্যেই তিনি ঘোষণা দেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাব নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে মুলতবি প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় নোটিশ সংশোধনের কথা বললে আবারও সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে দাঁড়িয়ে যান, আর সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে।
বিতর্কের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এ কমিটি দেশের বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে পারে।
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এরপর অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরও কিছু সময় হট্টগোল অব্যাহত থাকে। পরে দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
সংসদে এদিনের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও তার কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখনও তীব্র রয়েছে। তবে নির্ধারিত আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।