Monday, January 19, 2026

শিক্ষকতা আর সাংবাদিকতায় দ্বৈত পেশা বন্ধ, এমপিও নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক


ফাইল ছবিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদ্য জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা–২০২৫’ দেশের শিক্ষকসমাজে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। এই নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মফস্বল সাংবাদিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

গত ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে সাংবাদিকতা কিংবা আইন পেশার মতো লাভজনক কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করা বহু শিক্ষক নিজেদের পেশাগত পরিচয় ও জীবিকার প্রশ্নে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

নীতিমালাটি প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিক্ষক-সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, সাংবাদিকতা কোনো পূর্ণকালীন চাকরি নয়; বরং এটি সমাজসেবামূলক ও সৃজনশীল একটি দায়িত্ব, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামমাত্র সম্মানী পাওয়া যায়। এ অবস্থায় একে দ্বৈত পেশা হিসেবে দেখার সিদ্ধান্ত তারা অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন।

এই পরিস্থিতিতে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-সাংবাদিক গ্রুপ’ ও ‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-সাংবাদিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’ নামে দুটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, নীতিমালার বিতর্কিত অংশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতিও চলছে। সংগঠনের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, সাংবাদিকতা বন্ধ করতে বাধ্য করা হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণমাধ্যম আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং যোগ্য লেখক-সংবাদকর্মী হারাবে দেশ।

মাঠ পর্যায়েও নীতিমালা বাস্তবায়নের তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকরা সাংবাদিকতা বা আইন পেশায় যুক্ত কি না সে সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে শিক্ষক-সাংবাদিকদের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধি হওয়া বা অন্যান্য সামাজিক দায়িত্ব পালনে যেখানে বাধা নেই, সেখানে সাংবাদিকতাকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পেশাগত স্বাধীনতাই নয়, স্থানীয় সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকেও হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত মান বজায় রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা মনে করছেন এই নীতিমালা বৈষম্য তৈরি করবে এবং শিক্ষকসমাজে অস্থিরতা বাড়াবে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন